HealthMen

অসতর্ক আধুনিক জীবনযাপনে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, খাওয়া দাওয়া ও পানি খাওয়ার অনিয়ম, এ সবের প্রভাব পড়ে কিডনির উপর। কিডনিতে সাধারণত যেসব রোগ হয় তার মধ্যে পাথর একটি পুরনো রোগ। কিডনিতে পাথর ধরা পড়লে আমরা অনেকসময় হাতুড়ে কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেই। এতে কালক্ষেপণ করে অল্পতেই সেড়ে যাওয়া সমস্যার বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনি। সময়মত চিকিৎসা না করলে ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে এবং একসময় একেবারেই অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এ কার্যক্ষমতা কমতে থাকা নির্ভর করে পাথরের ধরন, অবস্থান, আকৃতি এবং সঠিক চিকিৎসা ও পরবর্তী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি কি কারণে কিডনিতে পাথর হয়?

🚩কিডনিতে বারবার সংক্রমণ এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা না করা।

🚩পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান না করা।

🚩খাবারে অধিক লবণ গ্রহণ করা।

🚩বেশি লাল মাংস যেমন-গরু ও খাসির মাংস এবং পোলট্রির মাংস খেলে পাথর হওয়ার ঝুকি বাড়ে।

🚩বেশি বা খুব কম ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া

🚩যত্রতত্র ক্যালসিয়াম জাতীয় ট্যাবলেট প্রচুর পরিমাণে খেলে পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

🚩ইনফ্লামেটরি বাওয়েল রোগ থাকলে, কিডনির রোগ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

🚩অতিরিক্ত অক্সালেট জাতীয় শাকসবজি যেমন, পুঁই শাক, পালং শাক, বিট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

🚩অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ অথবা বাতের ব্যথা কিংবা মূত্রাশয়ে প্রদাহের উপযুক্ত চিকিৎসা না করলে কিডনিতে পাথর হতে পারে।

🚩কিডনির অন্য কোন রোগ থাকলে।

অনেকের প্রশ্ন থাকে কিডনির পাথরে কি কি লক্ষণ দেখা দেয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ না-ও থাকতে পারে। তবে-

⚠️হঠাৎ তলপেটে, নিচের পেটের দুই পাশে বা কোমরে তীব্র ব্যথা।

⚠️ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে

⚠️রক্তবর্ণের লাল প্রস্রাব, ব্যথা, জ্বালাপোড়া থাকতে পারে।

⚠️ঘোলাটে এবং দূর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব।

⚠️ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা অল্প একটু হয়েই আর না হওয়া।

⚠️কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।

⚠️মাঝে মাঝে প্রস্রাবের সঙ্গে ছোট ছোট পাথর যাওয়া।

তবে পেট বা পিঠে ব্যথা অনুভব করা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব করা মানেই কিডনিতে পাথরের লক্ষণ নয়, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন, কারণ হতে পারে এটি মারাত্নক কোন রোগের লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঘরে বসে অনলাইনেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ পাচ্ছেন হেলথমেন এ। যেকোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক এপয়েনমেন্ট নিন ইনবক্স করুন m.me/healthmen.services বা কল করুন 01311040092 নম্বরে।

কিভাবে করবেন কিডনির পাথর প্রতিরোধ? জীবনযাত্রায় মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ মূলমন্ত্র

⏩ প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

⏩ আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ পরিমিত রাখুন।

⏩ কখনোই প্রস্রাব আটকে রাখবেন না।

⏩ প্রসাবের রাস্তা (বিশেষ করে মেয়েরা) সবসময় পরিষ্কার রাখুন।

⏩ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে কিন্তু প্রয়োজন ব্যতীত ক্যালসিয়াম ওষুধ না খাওয়াই ভালো।

⏩ বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে এর ঠিকমতো চিকিত্সা করান।

⏩ ক্যাফেইন এবং সোডা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত কফি পানে কিডনির অবস্থা আরো খারাপ হবে।

⏩ ধূমপান, পান-সুপারি বা তামাক ও তামাকজাত পন্য পরিহার করুন। মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।

কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের ধরন, অবস্থান, আকৃতির উপর। অনেক সময় অপারেশন ছাড়াই মুক্তি পাওয়া যায় তবে কিছু ক্ষেত্রে সার্জারীর প্রয়োজন হয়। তাই যে কোন সমস্যাতেই হাতুড়ে কবিরাজের পরামর্শমত আজেবাজে চিকিৎসা না করিয়ে রেজিস্ট্রারড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্যগত যেকোন প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন হেলথমেন এ। এপয়েনমেন্ট নিতে ইনবক্স করুন m.me/healthmen.services বা কল করুন 01311040092 নম্বরে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
X